খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জানুয়ারি ২০১৫, ৭:৪৫ এএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহাসিক জেলা বাগেরহাট শুধু প্রাচীন স্থাপত্যকীর্তি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং তার অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যও সমাদৃত। খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এই জেলার সংস্কৃতিতে ইতিহাসের নানা যুগের ছাপ স্পষ্ট। প্রাক্বৈদিক যুগ থেকে শুরু করে বৈদিক, আর্য, বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম সভ্যতার ধারাবাহিক প্রভাবে এখানে গড়ে উঠেছে একটি মিশ্র সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, যা আজও জেলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত।
Table of Contents

বাগেরহাট জেলার ভাষা ও উপভাষায় রয়েছে বৈচিত্র্য।
ফলে এ জেলার ভাষা একক আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যে বাঁধা নয়; বরং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা মানুষের প্রভাবের কারণে ভাষায় একধরনের বহুমাত্রিকতা গড়ে উঠেছে।
বাগেরহাট জেলার গ্রামীণ সমাজ কৃষিনির্ভর।
একসময় যৌথ পরিবার প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে একক পরিবার ব্যবস্থা বেশি দেখা যায়।
বাগেরহাটের গ্রামীণ বসতবাড়িতে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী দেখা যায়।
বাগেরহাট জেলার সংস্কৃতি বহুমাত্রিক ও বহুধর্মীয়।
এছাড়া এখানে কিছু কুসংস্কারও প্রচলিত, যেমন ভূত-প্রেত বা জ্বীন-পরীর অস্তিত্বে বিশ্বাস।
গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বিনোদনমূলক আয়োজন ও লোকজ ঐতিহ্য এখনও জীবন্ত।

বাগেরহাট জেলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সংক্ষেপে “ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনস্থল” বলা যায়। ইতিহাসের নানা স্তর অতিক্রম করে এখানে গড়ে উঠেছে একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, যা আজও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, ভাষা, পোশাক, আচার-অনুষ্ঠান, সংগীত ও বিনোদনে প্রতিফলিত। কৃষিনির্ভর সমাজ হলেও বাগেরহাটের মানুষ সাংস্কৃতিক চর্চাকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে লালন করে আসছে।
মন্তব্য