খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৯:২৮ এএম
যৌনপল্লির নারীরা ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় বাগেরহাটে,‘আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখন এখানে আসি। সেই থেকে এখানে পড়ে আছি। অনেকবার ভেবেছি এখান থেকে চলে যাবো কিন্তু কোথায় যাবো? যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই আমার। এখন বয়স হয়েছে, আয়-ইনকাম নেই। আমার জীবন চলবে কীভাবে?’

হতাশার সুরে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বাগেরহাট শহরের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মকারপট্টিতে অবস্থিত জেলার একমাত্র যৌনপল্লির বাসিন্দা চামেলি আক্তার (ছদ্মনাম)। শুধু তিনি নন, তার মতো অন্তত ২০ যৌনকর্মী তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এদের সবারই বয়স পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে।
আর্থিক টানাপড়েন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নিম্নমানের স্যানিটেশন ব্যবস্থা, চিকিৎসার অভাব, কর্ম না থাকা, সরকারি সহযোগিতার অভাব, পুনর্বাসনসহ নানা সমস্যার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছেন এখানকার যৌনকর্মীরা।
চামেলি আক্তার বলেন, ‘এখন প্রায়ই অসুস্থ থাকি কিন্তু চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। সপ্তাহে একদিন পরিবার পরিকল্পনা থেকে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেজন্যও ১০ টাকা করে দিতে হয়।’
কমারপট্টির এ যৌনপল্লিতে বসবাসরত ৩৮ যৌনকর্মী মধ্যে পঞ্চাষোর্ধ রয়েছেন অন্তত ২০ জন। এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক বয়স্ক ভাতা পেলেও বিধবাসহ কোনো ভাতাই পান না। সরকারি তেমন কোনো সুযোগ সুবিধাও মেলে না।
যৌনকর্মী শিউলি (ছদ্মনাম) বলেন, ‘এখানকার পরিবেশ খুব খারাপ। বিশেষ করে ড্রেনেজ সিস্টেম যাচ্ছেতাই। বৃষ্টির সময় এখানে হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এমনকী ঘরের মধ্যেও পানি উঠে যায় কখনো কখনো। বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি।’

মন্তব্য