খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জানুয়ারি ২০১৫, ৭:২১ এএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত বাগেরহাট জেলা শুধু ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্যই খ্যাত নয়, বরং এখানকার মানুষের পেশা ও জীবিকা বৈচিত্র্যেও সমৃদ্ধ। বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান, সুন্দরবনের নিকটবর্তীতা, উর্বর কৃষিজমি এবং নানান প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বাগেরহাটের পেশাগত ধারা অনন্য বৈচিত্র্য লাভ করেছে। কৃষক, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী থেকে শুরু করে আধুনিক পেশাজীবী পর্যন্ত—সবাই এ জেলার অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
Table of Contents

বাগেরহাটের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো—
এগুলোকে কেন্দ্র করেই জেলার পেশাগত কাঠামো গড়ে উঠেছে।
বাগেরহাটের অধিকাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সাথে জড়িত। ধান, পাট, শাকসবজি, ডাল, তেলবীজ এবং বিভিন্ন মৌসুমী ফসল এখানকার প্রধান কৃষিপণ্য। বিশেষ করে ভৈরব, মধুমতি ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলো কৃষির জন্য উর্বর ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে কৃষিজীবীরা এখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, লবণাক্ততা, বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন।
বাগেরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য অংশ সুন্দরবনের কোলঘেঁষা। এখানে অসংখ্য নদী, খাল ও পুকুর থাকায় মাছ ধরা ও মাছচাষ প্রধান জীবিকা।
সুন্দরবন থেকে মধু, গোলপাতা, কাঠ ও অন্যান্য বনজ দ্রব্য আহরণ অনেক মানুষের জীবিকা। মধু সংগ্রহকারীরা (মৌয়াল), গোলপাতা সংগ্রহকারীরা (বাওয়ালী) এবং কাঠ সংগ্রহকারীরা বহুদিন ধরে সুন্দরবনের সাথে জড়িত।
বাগেরহাট জেলার অর্থনীতিতে ব্যবসায়ী শ্রেণির অবদানও গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে শ্রমজীবীরা একটি বড় অংশ।
সময়ের পরিবর্তনে বাগেরহাটে আধুনিক পেশাজীবীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
এরা জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে এবং জাতীয় পরিসরে বাগেরহাটকে পরিচিত করছে।
বাগেরহাট জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রবাসে কর্মরত, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।
গ্রামীণ সমাজে নারীরা আগে গৃহস্থালির কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে নারীরা কৃষি, সেলাই, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকতা, স্বাস্থ্যকর্মী ও এনজিও কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।
বাগেরহাটের পেশাজীবী সমাজ আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হতে পারে যদি—
বাগেরহাট জেলার পেশা ও পেশাজীবীরা এ জেলার প্রাণশক্তি। কৃষক-শ্রমিকের ঘামে যেমন খাদ্য ও অর্থনীতি টিকে আছে, তেমনি মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও আধুনিক পেশাজীবীদের অবদান বাগেরহাটকে করেছে বৈচিত্র্যময়। নারীর অংশগ্রহণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ আগামী দিনে এই জেলার পেশাগত কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
মন্তব্য