খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৪৩ এএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর জেলা হলো বাগেরহাট। এটি খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এবং প্রশাসনিক ও ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দেশের একটি “এ” শ্রেণিভুক্ত জেলা। নদী, বন, সমুদ্র ও সুন্দরবনের সংযোগে গড়ে ওঠা এ জনপদ ভৌগলিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও সমৃদ্ধ।

Table of Contents
বাগেরহাট জেলা ২২°৩২’ থেকে ২২°৫৬’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৩২’ থেকে ৮৯°৪৮’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।
জেলার মোট আয়তন ৫,৮৮২.১৮ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে ১,৮৩৪.৭৪ বর্গকিলোমিটার বনাঞ্চল (মূলত সুন্দরবন) এবং ৪০৫.৩ বর্গকিলোমিটার জলাশয়। অবশিষ্টাংশ নিম্ন সমভূমি ও কৃষিজমি।
বাগেরহাট সদর শহরের অধিকাংশ ভৈরব নদীর পশ্চিম তীরে এবং শহরের বর্ধিত অংশ দড়াটানা নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠেছে। ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—
১. তীরবর্তী উপকূলীয় এলাকা
২. অন্তবর্তী উপকূলীয় এলাকা
বাগেরহাট প্রশাসনিকভাবে ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত:
১. মোল্লাহাট
২. চিতলমারী
৩. ফকিরহাট
৪. কচুয়া
৫. বাগেরহাট সদর
৬. রামপাল
৭. মোংলা
৮. মোড়েলগঞ্জ
৯. শরণখোলা
এছাড়া রয়েছে ৭৫টি ইউনিয়ন, ৭২০টি মৌজা, ১,০৪৭টি গ্রাম এবং ৩টি পৌরসভা (বাগেরহাট, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ)।
বাগেরহাটকে বলা হয় নদী ও খালের জেলা। এখানে রয়েছে—
এছাড়াও এখানে রয়েছে বিশাল সুন্দরবন, যা জেলার ১,৮৬৮.৯১ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। বনাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকা একে বিশেষভাবে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় করেছে।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বাগেরহাট জেলার জনসংখ্যা ১৪,৭৬,০৯০ জন।
বাগেরহাটে বহু ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে:
এর ফলে জেলার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যে গড়ে উঠেছে।
বাগেরহাট জেলার ভৌগলিক পরিচিতি থেকে স্পষ্ট যে, এটি নদী, বন, সমুদ্র ও মানুষের সহাবস্থানে গড়ে ওঠা এক অনন্য জনপদ। সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্রবন্দর, উর্বর কৃষিজমি ও সমৃদ্ধ জলাশয় মিলিয়ে এই জেলা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল।
মন্তব্য