বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত এক শ্রমিককে চোরাই তামার তারসহ আটক করেছে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের কাছে তল্লাশির সময় তাকে আটক করা হয়।
আটক শ্রমিকের নাম মো. মনিরুল ইসলাম (৪০)। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সস্থিপুর গ্রামে। তিনি মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে এবং রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিল বলে জানানো হয়েছে।
আনসার ব্যাটালিয়ন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতর থেকে একটি চোরচক্র তার সংগ্রহ করে বাইরে পাচারের চেষ্টা করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মূল ফটকে নজরদারি জোরদার করা হয়।
মনিরুল ইসলাম বিকেলে কর্মস্থল ত্যাগ করার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে তাকে তল্লাশি করা হলে শরীরের সঙ্গে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা প্রায় সাত কেজি আর্থিং কপার ক্যাবল উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এসব তার চুরি করে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে আনসার ব্যাটালিয়ন-৩ এর অধিনায়ক বলেন,
“গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা তৎপরতা চালাই। তল্লাশির সময় মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে চোরাই তামার তার পাওয়া যায়। এরপর তাকে আটক করে রামপাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে তার সংগ্রহ করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের জন্য বড় হুমকি। তারা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়—এখানে আগে থেকেও চুরি ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানে নিরাপত্তার ফাঁক থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
রামপাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামত আদালতের মাধ্যমে জব্দ দেখানো হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অন্যান্য জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
১ thought on “রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তামার তার চুরির অভিযোগে এক শ্রমিক আটক”