বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক জেলা বাগেরহাট, যা খুলনা বিভাগের অন্তর্গত। প্রাচীনকাল থেকেই এ জেলা কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় শিল্প উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত। এর সাথে সাথে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাট ও বাজার। হাট-বাজারগুলো শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং গ্রামীণ জনজীবনের সামাজিক মিলনস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

Table of Contents
বাগেরহাট জেলার হাট-বাজার
বাগেরহাট জেলার হাট-বাজারের বৈশিষ্ট্য
- অর্থনৈতিক ভূমিকা: স্থানীয় কৃষিজাত পণ্য, মাছ, সুপারি, নারিকেল, খেঁজুর গুড়, ধান-চাল ও বিভিন্ন শাকসবজির ক্রয়-বিক্রয় হয় এসব বাজারে।
- সামাজিক গুরুত্ব: হাটের দিনে গ্রামের মানুষ মিলিত হয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আলোচনা করে।
- ইজারা ব্যবস্থা: অধিকাংশ হাট-বাজার উপজেলা পরিষদ বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ইজারা দেওয়া হয়, যা স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
- চান্দিনা ভিটি: দোকান বা স্থায়ী আসন সংখ্যা অনুযায়ী হাটের গুরুত্ব নির্ধারণ হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলার হাট-বাজার তালিকা
| ক্রমিক | নাম | আয়তন | চান্দিনা ভিটির সংখ্যা | ইজারা মূল্য | ঠিকানা |
| ১ | মাদ্রাসা হাট | ৩ কিমি² | ১২ | ৫০,০০০/- | বেমরতা |
| ২ | ফতেপুর বাজার | ৮ বর্গ | ১০ | ৫০,০০০/- | বেমরতা |
| ৩ | দেপাড়া হাট | ৬ কিমি² | ১২ | ১,০০,০০০/- | গোটাপাড়া |
| ৪ | কান্দাপাড়া বাজার | ৩ কিমি² | ৫ | ৫৫,০০০/- | গোটাপাড়া |
| ৫ | কাড়াপাড়া বাজার | ৫ বর্গ | ৫ | ২০,০০০/- | কাড়াপাড়া |
| ৬ | বাবুর হাট | ৩ কিমি² | ৫ | ২৫,০০০/- | — |
| ৭ | মগরাহাট | ৬ কিমি² | ১২ | ১,০০,০০০/- | কাড়াপাড়া |
| ৮ | মেগনিতলা বাজার | ২ কিমি² | ৪ | ৬,০০০/- | কাড়াপাড়া |
| ৯ | কাশেমপুর বাজার | ৭ কিমি² | ৭ | ৬৫,০০০/- | ডেমা |
| ১০ | কালিয়া বাজার | ৫ কিমি² | ৮ | ৪৫,০০০/- | ডেমা |
| ১১ | দরগাহ বাজার | ২ কিমি² | ১০ | ৪৫,০০০/- | ষাটগুম্বজ |
| ১২ | হদ্বের হাট বাজার | ৩ কিমি² | ৭ | ৭৫,০০০/- | বিষ্ণুপুর |
| ১৩ | বাবুর হাট বাজার (আংশিক) | ২ কিমি² | ৭ | ৪৫,০০০/- | বিষ্ণুপুর |
| ১৪ | বাখরগঞ্জ বাজার | ২ কিমি² | ১০ | ১,০০,০০০/- | বিষ্ণুপুর |
| ১৫ | বাদোখালী বাজার | ৩ কিমি² | ৮ | ৬৫,০০০/- | বিষ্ণুপুর |
| ১৬ | কোড়ামারা বাজার (পরিষদ সংলগ্ন) | ৫ কিমি² | ১০ | ৯৫,০০০/- | বিষ্ণুপুর |
| ১৭ | বারুইপাড়া বাজার | ৩ কিমি² | ৮ | ৪০,০০০/- | বারুইপাড়া |
| ১৮ | উজলপুর বাজার | ৭ কিমি² | ১০ | ৯২,০০০/- | বারুইপাড়া |
| ১৯ | আড়পাড়া বাজার | ৩ কিমি² | ৭ | ৪৫,০০০/- | বারুইপাড়া |
| ২০ | কাটাখালী বাজার | ৫ কিমি² | ১০ | ৭৫,০০০/- | বারুইপাড়া |
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
১. রাজস্ব আয়: বাগেরহাট জেলার হাট-বাজার থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়।
২. কৃষিপণ্য বাণিজ্য: কৃষকরা সরাসরি উৎপাদিত ধান, সবজি, সুপারি, নারিকেল ও মৎস্যজাত পণ্য বিক্রি করতে পারে।
৩. কুটিরশিল্পের বাজার: মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ-বেতের তৈরি দ্রব্য ও হাতের কাজের সামগ্রী হাটে জনপ্রিয়।
৪. পরিবেশ ও জীবনযাত্রা: হাটকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থা যেমন ভ্যান, অটো, নৌকা ইত্যাদি সচল থাকে।
৫. সামাজিক সংযোগ: সাপ্তাহিক হাটগুলো গ্রামীণ মানুষের একত্র হওয়ার প্রধান ক্ষেত্র, যেখানে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মেলবন্ধন গড়ে ওঠে।

বাগেরহাট জেলার হাট-বাজার কেবল পণ্য বিনিময়ের জায়গা নয়, বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও সমাজজীবনের অন্যতম ভিত্তি। প্রাচীনকাল থেকে আজ পর্যন্ত হাটগুলো কৃষক, জেলে, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। যথাযথ ইজারা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধা বাড়ালে এই হাট-বাজারগুলো জেলার সার্বিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।